ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেতাগীতে ঘুসের পাওয়ার হাউজ পিআইও ওয়ালিউল

  • প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৩
  • ৭ ভিউ

প্রকল্প পাশ করাতেই ঘুসের দর ২৫ লাখ

ঘুস বানিজ্যের ভিডিও ভাইরাল : অফিস কক্ষেই বসান ঘুসের হাট :চলে কমিশন বানিজ্য

ডেস্ক নিউজ:
বরগুনার বেতাগীতে ঘুসের পাওয়ার হাউজ নামে পরিচিত পিআইও অফিস। সেই অফিসের ঘুসের মহানায়ক বেতাগী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিএম ওয়ালিউল ইসলাম নিজেই। প্রকল্প পাশ করাতেই তার ঘুসের দর ২৫ লাখ টাকা। সম্প্রতি এমন এক ঘুস বানিজ্যের ভিডিও এসছে যুগান্তরের হাতে। অদৃশ্য ক্ষমতায় বছরের পর বছর ধরে চলছে পিআইও’র ঘুস বাণিজ্যের একক আধিপত্য। অফিস কক্ষেই বসে ঘুসের হাট, চলে কমিশন বানিজ্য। এতে দিশেহারা স্থানীয় অর্ধশত ঠিকাদার। যদিও এ ব্যাপারে সঠিক কোনো ব্যাখা দেননি পিআইও ওয়ালিউল ইসলাম। তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
ঘুস বাণিজ্যের ভিডিও থেকে জানা যায়, বরগুনা ও বেতাগী অফিসের দায়িত্বে থাকাকালীনই দুই উপজেলা থেকে ঘুসের নামে পুরো ৫০ লাখ টাকা লুটপাট করেন পিআইও ওয়ালিউল ইসলাম। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সদর ও বেতাগী দুই ইপজেলা মিলিয়ে ১৩টি ছোট গার্ডার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের একটি প্যাকেজ প্রকল্প এনে দিবেন পিআইও যে প্রকল্পের মূল্য ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এবং ওই প্রকল্পে তার কমিশন ২৫ লাখ টাকা। এ টাকা দুযোর্গ ব্যবস্থপনা অফিসের প্রধান কাযার্লয়ের’ একজন উচ্চপধস্থ কর্মকর্তার পি.এ আবু তাহেরের মাধ্যমে গ্রহণ করেণ পিআইও ওয়ালিউল। পরে অফিসের মধ্যে টাকা পাঠানোর সময় পুরো ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে একটি নাটক তৈরী করেন। এ ঘটনায় পিআইওকে অফিসের মধ্যেই অবরুদ্ধ করেন ৭ জন ঠিকাদার। আরো দেখা যায়,‘ বেতাগী অফিস থেকেও হাজার টাকার নোটের কয়েকটি বান্ডিল ঠিকাদারদের কাছ থেকে পিআইও’র নির্দেশে আলাদা আলাদা ভাবে গ্রহণ করেন অফিস সহকারী জসিম উদ্দিন ও তার পিওন ফারুখ মিয়া। এই পুরো দুইটি ঘটনার ৭ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়।
খোঁজ নিলে জানা যায়, পিআইও ওয়ালিউল অফিস কক্ষে ঘুসের হাট বসিয়ে নিজ নেতৃত্বে চালান কমিশন বানিজ্য। যেকোনো সরকারি প্রকল্পের বিল উত্তোলনে শতকরা হারে তিনি অফিস কক্ষেই ঘুস নেন গুনে গুনে। একাধিক জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে অনুমোদিত বিল থেকে অফিসের খরচ বাবদ কমিশনের নাম করে তিনি গ্রহণ করেন ৩০ শতাংশ ঘুস। যেকোনো প্রকল্পের বিল উত্তলনে রয়েছে তার কমিশন বানিজ্য। এছাড়াও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার,রক্ষণাবেক্ষণ টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোতে ২০ শতাংশ কমিশন না পেলে কোনো বিলে স্বাক্ষর করেন না এই পিআইও, তবে কমিশন পেলে প্রকল্প পরিদর্শন করারও দরকার পরে না তার। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জুনের মধ্যেই সকল প্রকল্পের কাজ শেষ করেই বিল উত্তোলন করার কথা থাকলেও, জুনের আগে কাজ শেষ না হওয়া প্রকল্পের অর্থ ‘বাস্তবায়ন অফিস একাউন্ট’ হিসাব নম্বরে ব্যাংকে বিডি করে রাখেন। পরে ঠিকাদারদের ওই বিলের টাকা দেয়ার সময় ৩০% কমিশন গ্রহণ করেন পিআইও ওয়ালিউল। এছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১ও২ নং ধাপে নিম্নমানের কাজসহ অর্থের বিনিময়ে বিত্তবানদের ঘর দিয়েও সমালোচিত তিনি। ইউপি সদস্যরা বলেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই চলে তার ঘুসবানিজ্য ও অনিয়ম দুর্নীতি, ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের তদন্ত পর্যন্ত করা হয়না।
এছাড়াও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করা, মায়ের নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে সরকারি কাজ হাতিয়ে নেয়া, ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণের সময় জনগণের হাতে আটকসহ অনিয়ম দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে পিআইও ওয়ালিউলের বিরুদ্ধে। বরগুনা সদর ও বেতাগী দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকাকালীন মোটা অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে বিল উত্তোলন করে তোপের মুখে পরেও অদৃশ্য ক্ষমতায় স্বপদে বহাল আছেন তিনি। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিআইও তার মায়ের নামের ‘মেসার্স কোহিনুর বেগম’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম বিজয়ী ঘোষণা করে ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩৮ টাকার একটি কাজ আত্মসাৎ করেন। ত্রানের অর্থায়নে ২ কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার হোসনাবাদে একটি সাইক্লোন সেল্টারের নিমার্ণকাজ চলাকালীন ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুস গ্রহণকালে এলাকাবাসী ঘুসের টাকাসহ পিআইওকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন। ওই কাজের ঠিকাদার এনায়েত হোসেন বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বিল উত্তোলনে পিআইওকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান,‘ আমরা পিআইও ওয়ালিউল ইসলামরে কাছে জিম্মি। আমরা স্বল্প পূজিঁ নিয়ে কাজ(ঠিকাদারি) করি। তারপর যখন বিল আটকে দেয় তখন বাধ্য হয়ে ঘুস দেই । এতদিন এসব ভিডিও বাহিরে প্রকাশ করিনি কারন তাহলে আমাদের কাজের বিল নানা কৌশলে আটকে দিতো পিআইও। আরো বলেন, প্রতিটি কাজ ৫% লেস দিয়ে নিতে হয়, ভ্যাট আয়কর আছে ১০%, পিআইও ঢাকা অফিসের ঘুসের জন্য নেন ১০%, নিজ দপ্তরের জন্য রাখেন ৫% , এছাড়া ১০% থাকে জামানত। ১০০ টাকা থেকে যদি ৪০ টাকা এভাবেই চলে যায় তা হলে কি দিয়ে আমরা ভালোভাবে কাজ করবো। আবার যদি টাকা না দেই তবে কাজও পাবোনা, আবার বিলও উত্তোলন হবেনা।
বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিএম ওয়ালিউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,‘ আমার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ সত্য নয়। আযান হয়েছে আমি নামাজে যাবো আমাকে বিরক্ত করবেন না। যা বলার আমি আমার ঊর্ধতন কতৃর্পক্ষকে বলবো।
বেতাগী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ বলেন,‘ অভিযোগ গুলো শুনলাম তবে চাইলেই আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারিনা কারন তিনি আমার অধিনে না, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করবো।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,‘ এ বিষয়ে উপজেলার প্রশাসনের সাথে আলোচনা করা হবে, এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ

মন্তব করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল

বেতাগীতে ঘুসের পাওয়ার হাউজ পিআইও ওয়ালিউল

আপডেট টাইম ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৩

প্রকল্প পাশ করাতেই ঘুসের দর ২৫ লাখ

ঘুস বানিজ্যের ভিডিও ভাইরাল : অফিস কক্ষেই বসান ঘুসের হাট :চলে কমিশন বানিজ্য

ডেস্ক নিউজ:
বরগুনার বেতাগীতে ঘুসের পাওয়ার হাউজ নামে পরিচিত পিআইও অফিস। সেই অফিসের ঘুসের মহানায়ক বেতাগী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিএম ওয়ালিউল ইসলাম নিজেই। প্রকল্প পাশ করাতেই তার ঘুসের দর ২৫ লাখ টাকা। সম্প্রতি এমন এক ঘুস বানিজ্যের ভিডিও এসছে যুগান্তরের হাতে। অদৃশ্য ক্ষমতায় বছরের পর বছর ধরে চলছে পিআইও’র ঘুস বাণিজ্যের একক আধিপত্য। অফিস কক্ষেই বসে ঘুসের হাট, চলে কমিশন বানিজ্য। এতে দিশেহারা স্থানীয় অর্ধশত ঠিকাদার। যদিও এ ব্যাপারে সঠিক কোনো ব্যাখা দেননি পিআইও ওয়ালিউল ইসলাম। তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
ঘুস বাণিজ্যের ভিডিও থেকে জানা যায়, বরগুনা ও বেতাগী অফিসের দায়িত্বে থাকাকালীনই দুই উপজেলা থেকে ঘুসের নামে পুরো ৫০ লাখ টাকা লুটপাট করেন পিআইও ওয়ালিউল ইসলাম। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সদর ও বেতাগী দুই ইপজেলা মিলিয়ে ১৩টি ছোট গার্ডার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের একটি প্যাকেজ প্রকল্প এনে দিবেন পিআইও যে প্রকল্পের মূল্য ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এবং ওই প্রকল্পে তার কমিশন ২৫ লাখ টাকা। এ টাকা দুযোর্গ ব্যবস্থপনা অফিসের প্রধান কাযার্লয়ের’ একজন উচ্চপধস্থ কর্মকর্তার পি.এ আবু তাহেরের মাধ্যমে গ্রহণ করেণ পিআইও ওয়ালিউল। পরে অফিসের মধ্যে টাকা পাঠানোর সময় পুরো ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে একটি নাটক তৈরী করেন। এ ঘটনায় পিআইওকে অফিসের মধ্যেই অবরুদ্ধ করেন ৭ জন ঠিকাদার। আরো দেখা যায়,‘ বেতাগী অফিস থেকেও হাজার টাকার নোটের কয়েকটি বান্ডিল ঠিকাদারদের কাছ থেকে পিআইও’র নির্দেশে আলাদা আলাদা ভাবে গ্রহণ করেন অফিস সহকারী জসিম উদ্দিন ও তার পিওন ফারুখ মিয়া। এই পুরো দুইটি ঘটনার ৭ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়।
খোঁজ নিলে জানা যায়, পিআইও ওয়ালিউল অফিস কক্ষে ঘুসের হাট বসিয়ে নিজ নেতৃত্বে চালান কমিশন বানিজ্য। যেকোনো সরকারি প্রকল্পের বিল উত্তোলনে শতকরা হারে তিনি অফিস কক্ষেই ঘুস নেন গুনে গুনে। একাধিক জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে অনুমোদিত বিল থেকে অফিসের খরচ বাবদ কমিশনের নাম করে তিনি গ্রহণ করেন ৩০ শতাংশ ঘুস। যেকোনো প্রকল্পের বিল উত্তলনে রয়েছে তার কমিশন বানিজ্য। এছাড়াও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার,রক্ষণাবেক্ষণ টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোতে ২০ শতাংশ কমিশন না পেলে কোনো বিলে স্বাক্ষর করেন না এই পিআইও, তবে কমিশন পেলে প্রকল্প পরিদর্শন করারও দরকার পরে না তার। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জুনের মধ্যেই সকল প্রকল্পের কাজ শেষ করেই বিল উত্তোলন করার কথা থাকলেও, জুনের আগে কাজ শেষ না হওয়া প্রকল্পের অর্থ ‘বাস্তবায়ন অফিস একাউন্ট’ হিসাব নম্বরে ব্যাংকে বিডি করে রাখেন। পরে ঠিকাদারদের ওই বিলের টাকা দেয়ার সময় ৩০% কমিশন গ্রহণ করেন পিআইও ওয়ালিউল। এছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১ও২ নং ধাপে নিম্নমানের কাজসহ অর্থের বিনিময়ে বিত্তবানদের ঘর দিয়েও সমালোচিত তিনি। ইউপি সদস্যরা বলেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই চলে তার ঘুসবানিজ্য ও অনিয়ম দুর্নীতি, ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের তদন্ত পর্যন্ত করা হয়না।
এছাড়াও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করা, মায়ের নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে সরকারি কাজ হাতিয়ে নেয়া, ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণের সময় জনগণের হাতে আটকসহ অনিয়ম দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে পিআইও ওয়ালিউলের বিরুদ্ধে। বরগুনা সদর ও বেতাগী দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকাকালীন মোটা অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে বিল উত্তোলন করে তোপের মুখে পরেও অদৃশ্য ক্ষমতায় স্বপদে বহাল আছেন তিনি। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিআইও তার মায়ের নামের ‘মেসার্স কোহিনুর বেগম’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম বিজয়ী ঘোষণা করে ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩৮ টাকার একটি কাজ আত্মসাৎ করেন। ত্রানের অর্থায়নে ২ কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার হোসনাবাদে একটি সাইক্লোন সেল্টারের নিমার্ণকাজ চলাকালীন ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুস গ্রহণকালে এলাকাবাসী ঘুসের টাকাসহ পিআইওকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন। ওই কাজের ঠিকাদার এনায়েত হোসেন বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বিল উত্তোলনে পিআইওকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান,‘ আমরা পিআইও ওয়ালিউল ইসলামরে কাছে জিম্মি। আমরা স্বল্প পূজিঁ নিয়ে কাজ(ঠিকাদারি) করি। তারপর যখন বিল আটকে দেয় তখন বাধ্য হয়ে ঘুস দেই । এতদিন এসব ভিডিও বাহিরে প্রকাশ করিনি কারন তাহলে আমাদের কাজের বিল নানা কৌশলে আটকে দিতো পিআইও। আরো বলেন, প্রতিটি কাজ ৫% লেস দিয়ে নিতে হয়, ভ্যাট আয়কর আছে ১০%, পিআইও ঢাকা অফিসের ঘুসের জন্য নেন ১০%, নিজ দপ্তরের জন্য রাখেন ৫% , এছাড়া ১০% থাকে জামানত। ১০০ টাকা থেকে যদি ৪০ টাকা এভাবেই চলে যায় তা হলে কি দিয়ে আমরা ভালোভাবে কাজ করবো। আবার যদি টাকা না দেই তবে কাজও পাবোনা, আবার বিলও উত্তোলন হবেনা।
বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিএম ওয়ালিউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,‘ আমার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ সত্য নয়। আযান হয়েছে আমি নামাজে যাবো আমাকে বিরক্ত করবেন না। যা বলার আমি আমার ঊর্ধতন কতৃর্পক্ষকে বলবো।
বেতাগী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ বলেন,‘ অভিযোগ গুলো শুনলাম তবে চাইলেই আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারিনা কারন তিনি আমার অধিনে না, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করবো।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,‘ এ বিষয়ে উপজেলার প্রশাসনের সাথে আলোচনা করা হবে, এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।